এরিয়া ৫১

এরিয়া ৫১ (ইংরেজি: Area 51 এরিয়া ফিফটীওয়ান্‌) একটি বিশাল (নেলিসের বিমান বাহিনী) সামরিক বাহিনীর অপারেশন ঘাটি, যার আয়তন ২৬,০০০ বর্গকিলোমিটার। এটি পশ্চিমা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রেরনেভাডা অঙ্গরাজ্যের দক্ষিণাঞ্চলে এবং লাস ভেগাস থেকে প্রায় ১৫০ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিম রেকেলগ্রামের কাছে অবস্থিত[১]। এটি একটি বিরাট গোপনীয় সামরিক বিমান ঘাঁটি যা ঠিক গ্রুম হ্রদের দক্ষিণ তীরে অবস্থিত। এটির ভিত্তির প্রাথমিক উদ্দেশ্য হল পরীক্ষামূলক উড়োজাহাজতৈরি, অস্ত্রশস্ত্রের সিস্টেমের পরীক্ষাকরণ এবং উন্নতিসাধন সমর্থন করা।[২][৩]

ভিত্তিটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিমান বাহিনীর বিশাল নেভাডা পরীক্ষা এবং প্রশিক্ষণ সীমার মধ্যে অবস্থান করে। ভিত্তির সুবিধার্থে “স্বপ্নের ভূমি”, “বেহেশ্তের রেকেল”, “বাড়ি ভিত্তি”, “পানির শহরের অংশ”, “গ্রুম হ্রদ” এবং সর্বাপেক্ষা সাম্প্রতিক কালে “সুখাবহ বিমানবন্দর” হিসাবেও জানা হয়। প্রায়ই সামরিক বিমানচালকরা ভিত্তির চারিদিকের আকাশ সীমাকে “বাক্স” বলে ডাকে। ভিত্তিটি যে উচ্চ স্তরের গোপনীয়তা পরিবেষ্টন করে তা মার্কিন সরকার এর অস্তিত্ব কেবল অস্পষ্টভাবে স্বীকার করে। এই ভিত্তির একটি নমুনা বিষয়ক চক্রান্তের তত্ত্বসমূহ এবং অশনাক্ত উড়ন্ত বস্তু (UFO) উপকথা নায়ক।[৪][৫]

২০০৯ সালে অবসর প্রাপ্ত বিভিন্ন কর্মকতারা যাদের এরিয়া ৫১-তে কাজ করার অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল বলে দাবী করে তাঁরা বলেন, এরিয়া ৫১ উন্নতিসাধন এবং সাম্প্রতিক প্রযুক্তির পরীক্ষাকরণের (সামরিক জেট প্লেন, চান্দ্র মডিউল, ইত্যাদি) কাজের জন্য অনেক গোপনীয়তা সাথে ব্যবহার করা হয়।[৬]

Read more

ডার্ক ওয়েব

ডার্ক ওয়েব হল ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েবের একটি উপাদান যা ডার্ক নেটে বিদ্যমান।আমরা য়ে ইনটারনেট ববহার করি সেটা মাত্র পাচ থেকে ছয় শতাংশ। এটি পাবলিক ইন্টারনেট ব্যবহারকারী একধরনের লুকায়িত নেটওয়ার্ক । এতে প্রবেশ করতে নির্দিষ্ট সফটওয়্যার, কনফিগারেশন বা অনুমোদনের প্রয়োজন হয়। [১][২] ডার্ক ওয়েব মূলত ডিপ ওয়েবের একটি অংশ। এই অংশে সাধারন সার্চ ইঞ্জিন প্রবেশ করতে পারে না। যদিও কখনও কখনও ভুল করে “ডিপ ওয়েব” শব্দটি ডার্ক ওয়েবকে বোঝাতে ব্যবহার করা হয়। [৩][৪][৫][৬][৭]

ডার্ক ওয়েবকে গঠনকারী ডার্কনেটে থাকে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ফ্রেন্ড-টু-ফ্রেন্ড, পিয়ার-টু-পিয়ার নেটওয়ার্ক, সেইসাথে থাকে ফ্রিনেট, আইটুপি ও টরের মতো বড় বড় নেটওয়ার্ক, এবং এসব নেটওয়ার্ক পরিচালিত হয় পাবলিক প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিদের দ্বারা। ডার্ক ওয়েব ব্যবহারকারীরা তাদের এনক্রিপশনবিহীন প্রকৃতির কারনে সাধারন ওয়েবে ক্লিয়ারনেট হিসাবে পরিচিত। [৮] টর নেটওয়ার্ক অনিয়ন ল্যান্ড হিসাবেও পরিচিত,[৯] এর কারন ডিপ ওয়েবের একটি উচ্চ পর্যায়ের ডোমেইন সাফিক্স ডট অনিয়ন এবং নিজেকে আড়াল করে ইন্টারনেট ব্যবহার করার পদ্ধতি অনিয়ন রাউটিং।

Read more

শিশুদের স্মার্টফোন আসক্তির ৫টি কুফল ও প্রতিকারের উপায়

আপনি হয়ত কোন গুরুত্বপূর্ণ কাজে ব্যস্ত। আপনার পাশে বসে ছোট বাচ্চাটা খুব দুষ্টুমি করছে। বাচ্চাকে শান্ত রাখার জন্য তার হাতে স্মার্টফোন বা ট্যাব ধরিয়ে দিলেন। গান, কার্টুন বা মজার ভিডিও ছেড়ে দিয়ে তাকে নিমিষেই শান্ত করে আপনি আপনার কাজে মনোনিবেশ করলেন। আপনার-আমার সবার বাসাতেই এই চিত্র এখন নিত্যদিনের। স্মার্টফোনের কল্যাণে শিশুদেরকে শান্ত রাখা, খাওয়ানো, এমনকি বর্ণমালা ও ছড়া শেখানোর কাজটিও বাবা-মায়ের জন্য অনেক সহজ ও স্বস্তিদায়ক হয়ে উঠেছে। বিপরীতে স্মার্টফোনের উপর নির্ভরতা বাড়ছে শিশুদের। আর এই নির্ভরশীলতাই হয়ত আমাদের অজান্তে শিশুদের জন্য ভয়াবহ বিপদ ডেকে আনছে। অথছ আমরা কি তা নিয়ে ভাবছি?

নতুন যে কোন কিছুই শিশুদের কাছে অনেক আকর্ষণীয়। আর তা যদি হয় ইন্টারনেট সংযোগসহ স্মার্টফোন যার মধ্যে একইসাথে গান, গেমস, কার্টুন, ফানি ভিডিও সহ শিশুদের পছন্দনীয় প্রায় সব কিছুই আছে, তাহলে তো কথাই নেই। নগরায়ন ও শিল্পায়নের এই যুগে এসে আমরা সবাই ব্যবস্ত হয়ে পড়ছি। অতিরিক্ত ব্যস্ততার কারণে অনেক বাবা-মা’ই শিশুদের পর্যাপ্ত সময় দিতে পারছেন না। নিজেদের অনুপস্থিতির সময়টাতে শিশুকে শান্ত রাখতে তাই অনেকেই মোবাইল ফোনের শরণাপন্ন হচ্ছেন।

কিন্তু ডাক্তারি গবেষণা মতে, স্মার্টফোনের অতি ব্যবহারে শিশুর মানসিক বিকাশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। শিশুর চিন্তা ও কল্পণাশক্তি ধীরে ধীরে স্মার্টফোনের রঙিন পর্দার গণ্ডিতে আটকা পড়ে যায়। ক্রমান্বয়ে মাদকাসক্তির মতই শিশুরা আক্রান্ত হয়ে পড়ে “স্মার্টফোন আসক্তি”-তে। এরই ধারাবাহিকতায় দেখা দেয় বিভিন্ন ধরণের মানসিক বৈকল্য। এমনকি চিকিৎসকরা এও জানাচ্ছেন যে, স্মার্টফোন আসক্তির কারণে শিশুর শুধুমাত্র মানসিক বিকাশই যে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে তা নয়, বরং তারা শারীরিকভাবেও মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকির সম্মুখীন হচ্ছে।

স্মার্টফোন আসক্তির কুফল:

১. স্মার্টফোন তথা ইন্টারনেট আসক্তি শিশুর স্বাভাবিক বিকাশে বাধা দেয়। শিশুর ধৈর্য্য ও মনোযোগ কমিয়ে দেয়। ফলে শিশু ধীরে ধীরে অসহিষ্ণু, অসামাজিক ও উচ্ছৃংখল হয়ে পড়ে। তার সহজাত সামাজিক গুণাবলীর বিকাশ বাধাপ্রাপ্ত হয়।
২. অনেক সময় ধরে ফোন ব্যবহারের কারণে শিশুরা পর্যাপ্ত ঘুম থেকে বঞ্চিত হয়। এতে তারা “মনোযোগের ঘাটতিজনিত চঞ্চলতা” বা “অ্যাটেনশন ডেফিসিট হাইপার আ্যক্টিভিটি ডিসর্ডার” নামক জটিলতায় ভোগে।
৩. স্মার্টফোনের মাধ্যমে শিশুরা অপ্রাপ্ত বয়সেই না বুঝে বিভিন্ন অনৈতিক ও আপত্তিকর বিষয়বস্তুর সম্মুখীন হয়। সহজেই এই্ বিষয়গুলোর মুখোমুখি হওয়াতে তারা এগুলোকে স্বাভাবিকভাবে গ্রহণ করছে। এ কারণে স্মার্টফোন ও ইন্টারনেট আসক্ত শিশু ও তরুণদের মাঝে নৈতিকতার অভাব ও মূল্যবোধের অবক্ষয় অপেক্ষাকৃতভাবে প্রবল বলে গবেষকদের ধারণা।‌
৪. অতিরিক্ত সময় ধরে ফোনের পর্দার দিকে তাকিয়ে থাকার কারণে শিশুদের বিভিন্ন ধরণের চোখের সমস্যা দেখা দেয়।
৫. শিশুরা বেশিরভাগ সময়ই শুয়ে বা বসে ফোন ব্যবহার করে। আর স্মার্টফোন আসক্ত শিশুরা ঘরের বাইরে খেলাধুলাতেও আগ্রহী হয় না। ফলে শৈশবকালীন অস্বাভাবিক ওজন বৃদ্ধির হার তাদের মাঝে খুবই বেশি। গবেষণায় দেখা গেছে, পরবর্তীতে এসব শিশুর ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপ এবং এ সম্পর্কিত বিভিন্ন জটিলতা যেমন: হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোক ও কিডনি রোগে আক্রান্ত হবার সম্ভাবনা অনেক বেশি থাকে।

প্রতিকারের উপায়:

১. শিশুকে পর্যাপ্ত সময় দিন।
২. শিশুকে খেলাধুলা ও বিভিন্ন সামাজিক কাজে উৎসাহিত করুন।
৩. প্রয়োজন ছাড়া শিশুর কাছে ফোন না রাখার চেষ্টা করুন।
৪. আপনার শিশু কোন কোন ওয়েবসাইট পরিদর্শন করছে তা খেয়াল রাখুন।
৫. বিভিন্ন ফিল্টারিং সফটওয়্যার ব্যবহার করুন। ক্ষতিকর ও আপত্তিজনক ওয়েবসাইট ফায়ারওয়াল প্রোটেকশন দিয়ে বন্ধ রাখুন।
৬. সন্তানকে ধর্মীয় ও নৈতিক মূল্যবোধ চর্চায় উদ্বুদ্ধ করুন এবং ইন্টারনেট এর খারাপ দিক সম্পর্কে সচেতন করুন।

Read more