হিজরি বর্ষ সমাপ্তি উপলক্ষ্যে ওয়াজ-নসিহতের বিধান

হিজরি বর্ষ সমাপ্তি উপলক্ষে ওয়াজ নসিহতের বিধান বর্ষ শেষে দেখা যায় বিভিন্ন মসজিদের খতীব, ওয়ায়েজ, অনেক আলেম ও লেখকগণ বয়ান-বক্তৃতা, লেখনি ও ইলেক্ট্রনিক নানা পদ্ধতি ব ̈াবহার করে ওয়াজ-নসিহত ও উপদেশ প্রদান আরম্ভ করেন। তারা বর্ষ শেষ, দুনিয়ার সমাপ্তি ও ধ্বংসের কথা ̄§রণ করিয়ে দেন। বিগত বৎসরের মোহাসাবা তথা আত্মসমালোচনার জন ̈ বলেন। নতুন বৎসরে, নব উদ ̈মে নেককাজ করার প্রত ̈য় গ্রহণের জন ̈ উদ্বুদ্ধ করেন।তবে, কুরআন, হাদিস ও শরিয়তের বিধান অনুসারে এ সময়কে বিশেষ ওয়াজ-নসিহতের জন ̈ মনোনীত করা এবং মানুষকে এ মুহূর্তে তওবা, আমলে সালেহ, সদকা, আত্মসমালোচনা ও ভুল-ত্রুটির জন ̈ অন ̈দের কাছ থেকে ক্ষমা চেয়ে নেয়ার উপদেশ দেয়া ইত ̈াদি সিদ্ধ নয়। বিভিন্ন কারণে এটা সুন্নত তো নয়-ই বরং বেদআত। ১.রাসূল সা. এবং সাহাবায়ে কেরাম বা যার কথা গ্রহণ করা যায় এমন কোন ইমান থেকে এ সময়কে তওবা ও আমলে সালেহ’র জন ̈ বিশিষ্ট করার প্রমাণ নেই। ২.কুরআন, হাদিস ও শরিয়তের বিধান অনুসারে হিজরি বৎসর সমাপ্তিকাল ধর্মীয় কোন উপলক্ষ ̈ নয়, যাতে নির্দিষ্ট আমল অনুমোদিত বা কোন নেকআমলের সওয়াব বৃদ্ধি করা হয়। হ ̈াঁ, শরিয়ত কিছু উপলক্ষকে শ্রেষ্টত্ব দিয়েছে এবং তাতে নেকআমল করার জন ̈ উদ্বুদ্ধ করেছে। যেমন আশুরা, রমজান, শাওয়াল ও জিলহজ মাসের প্রথম দশ তারিখ ইত ̈াদি। দ্বিতীয়ত : বর্ষ সমাপ্তির ব ̈াপারে এমন বক্তব ̈ও আসেনি যে, তাতে বান্দার আমলের একটি অধ ̈ায় পূর্ণ হয় বা তাতে বান্দার আমল আসমানে উঠানো হয়। যার এমন ধারণা সে ভুলে নিপতিত এবং সে এমন জিনিসকে ধর্মের অন্তর্ভুক্ত মনে করল, যা ধর্মের কোন জিনিস নয়। তবে, দলিল দ্বারা যা প্রমাণিত, তা হচ্ছে সপ্তাহের সোমবার ও বৃহ ̄úতিবার এবং দিনের ফজর সালাতের সময় ও আসর সালাতের সময় বান্দার আমল ঊর্ধ্বে উঠানো হয়। আরেকটি বর্ণনায় আছে, বৎসরের শাবান মাসেও বান্দার আমল ঊর্ধ্বে উঠানো হয়। তৃতীয়ত : মুমিন বান্দার আমল নামা তখনই বন্ধ হয়, যখন তার মৃতু ̈ হয় ও আল−াহ তাকে উঠিয়ে নেন। এর দ্বারা প্রমাণিত হল যে, হিজরি বর্ষের সমাপ্তি ও বান্দার আমলের সমাপ্তির সঙ্গে কোন সম্পর্ক নেই। ৩.হিজরি বৎসর নির্দিষ্ট করণ ও তার সমাপ্তি রাসূল নির্ধারণ করেননি, এমনকি আবুবকরও না। তবে মুসলমানদের প্রয়োজন, পার্থিব ̄^ার্থ ও তাদের আমলের প্রয়োজনের বিত্তিতে ওমর রা. তা উদ্ভাবন করেছেন। আর সাহাবায়ে কেরাম তা অনুমোদন দিয়েছেন। এর দ্বারাই প্রমাণিত হয় যে শরিয়ত বর্ষ সমাপ্তি ও তার মাঝে কোন আমল নির্ধারণ করেনি। ৪.প্রতে ̈ক মানুষের বৎসর শুরু হয় তার জন্মের দিন থেকে। পরের বৎসর যখন সে দিন আবার ফিরে আসে তখন তার বৎসর পূর্ণ হয়। আর এদিনটির মাধ ̈মে তার বৎসর শুরু হয় ও শেষ হয়, অথচ তা হিজরি বৎসরের শুরু বা শেষ নয়। কারো বৎসর শুর হয়
৩মহররম মাসে আবার কারো বৎসর শুরু হয় সফর মাসে এভাবেই চলছে। অতএব প্রতে ̈ক মানুষের বৎসর শুরু শেষ হিজরি বৎসর হিসেবে গণনা করা ভুল, আর এতে কোন ফায়দাও নেই। ৫.এসব মওসুমকে ধর্মীয় জ্ঞান করা এবং এতে কোন নেকআমল নির্দিষ্ট করা মূলত বেদআতের জন্ম দেয়া ও শরিয়ত নির্ধারিত দিনের মধে ̈ পরিবর্তন আনা বৈ কিছু নয়। এভাবে আমরা যদি বৎসর সমাপ্তি, হিজরতের দিন, ইসরা ও মেরাজের দিন এবং রাসূলের জন্ম দিনকে বিশেষ আমল ও কর্মকান্ডের জন ̈ নির্ধারণ করি ও তার প্রতি বিশেষ ̧রুত্বারোপ করি, তবে মনে রাখতে হবে, আমরা নিজদের জন ̈ গোমরাহী ও পথভ্রষ্টতার দ্বার উম্মুক্ত করে দিলাম। শরিয়তের নিদর্শনের মধে ̈ পরিবর্তন আনলাম এবং শরিয়ত নির্ধারিত মওসুমকে পরিবর্তন করে ̄^য়ং শরিয়তের সঙ্গে সংঘর্ষে লিপ্ত হলাম। অথচ শরিয়ত এসেছে এবাদত ও কুসং ̄‹ারের মাঝে পার্থক ̈ করার জন ̈, ইসলামিক উপলক্ষ ̈ ও অনৈসলামিক উপলক্ষে ̈র মধে ̈ পার্থক ̈ করার জন ̈। এটা একটা ̧রুত্বপূর্ণ মূলনীতি, এর প্রতি ̧রুত্বারোপ করা একান্ত কর্তব ̈। এ জন ̈ ইমাম মালেক রহ. ও অন ̈ান ̈ ইমামগণ ইসলাম ধর্মকে বেদআত, কুসং ̄‹ার ও গর্হিত কাজকর্ম থেকে হিফাজত করার জন ̈ এর প্রতি খুব ̧রুত্বারোপ করতেন। অতএব ইমাম, খতিব, দায়ী ও আলেমগণের উচিত এ দিনে তওবা, আমলে সালেহ ও মুহসাবার প্রতি জনগণকে উদ্বুদ্ধ না করা। বিশেষ কোন জিনিস এ দিনে সম্পাদন না করা। এবং বৎসরের শেষ জুমার প্রতি বিশেষ কোন ̧রুত্বারোপ না করা। কারণ এ দিন ̧লোর বিশেষ কোন ফজিলত নেই, বরং বৎসরের অন ̈ান ̈ দিনের মত এ দিন ̧লোও একই কাতারের। আর তওবা, আমলে সালেহ ও মুহাসাবা বৎসরের সব সময় করা যায়। হঁ ̈া, যদি উপদেশ ও শিক্ষা গ্রহণের একটি উপযুক্ত সময় হিসেবে এ মুহূর্তটিকে গ্রহণ করা হয় এবং কোন জিনিস বিশেষভাবে এতে উদ্যাপন না করা হয় তবে ভিন্না কথা। যেমন বর্ষ শেষ হওয়ার দ্বারা যদি দুনিয়ার সমাপ্তি ও মুমিনের মৃতু ̈র কথা ̄^রণ করিয়ে দেয়া হয় এবং আরো ̄^রণ করিয়ে দেয়া হয় যে, সময় খুবই ̧রুত্বপূর্ণ, সময় ও স্রোত কারো জন ̈ অপক্ষো করে না, এর মুল ̈ায়ণ করা প্রয়োজন, তবে কোন সমস ̈া নেই। যদি একে সুন্নত মনে না করা হয় এবং এর প্রতি বিশেষ ̧রুত্বারোপ করা না হয়। কারণ ওয়াজ-নসিহতের দরজা সব সময়ের জন ̈ উন্মুক্ত। বিশেষভাবে ও সাধারণভাবে বৎসরের প্রতিটি দিন এর জন ̈ উদ্বুদ্ধ করা হয়েছে। এর জন ̈ কোন দলিলের প্রয়োজন নেই। রাসূল সা. বিশেষ বিশেষ মুহূর্তকে ওয়াজ-নসিহতের জন ̈ সুবর্ণ সুযোগ মনে করতেন। এ ব ̈াপারে আমাদের আদর্শ পূর্বসুরিদের থেকেও অনেক উক্তি-প্রবাদ বর্ণিত রয়েছে। আল−াহ আমাদের সঠিক পথে পরিচালিত করুন। আমীন।

0 0

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Close

দিনপঞ্জিকা

August 2019
S M T W T F S
     
 123
45678910
11121314151617
18192021222324
25262728293031